সূচনা গল্পটি শুরু হয় আরিয়ানকে কেন্দ্র করে, যে পেশায় একজন তরুণ ফ্রিল্যান্স আলোকচিত্রী। একটি পুরাতন জমিদার বাড়ির ভেতরের ছবি তোলার অ্যাসাইনমেন্ট পেয়ে সে পৌঁছায় নিঝুম এক গ্রামে। গ্রামটির নাম 'কালোদিঘি'। সেখানে গিয়ে সে শুনতে পায়, জমিদার বাড়ির পুরনো মালিকের পরিবার বহু বছর আগে এক রহস্যময় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিল।
অলৌকিক ঘটনা ও ইঙ্গিত বাড়িতে অবস্থান করার প্রথম রাতেই আরিয়ান অদ্ভুত কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করে। ঘরের বাইরে ভারী পায়ের শব্দ, ফিসফিসানি কথা এবং দরজায় অনবরত টুকা মারার শব্দ সে শুনতে পায়—যাকে বাংলায় বলা হয় 'আাহট' বা মৃদু শব্দ। ক্যামেরা দিয়ে চারপাশের ছবি তোলার সময় সে লক্ষ্য করে, খালি চোখে কিছু দেখা না গেলেও ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে ঝাপসা একটি অবয়ব ভেসে উঠছে।
রহস্য উন্মোচন আরিয়ান জানতে পারে, অতীতে জমিদার পরিবারের ছোট মেয়ে এক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিল। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেয়ে এবং পরিবারের এক বিশ্বাসঘাতকের কারণে মেয়েটি যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। মৃত্যুর আগে তার তীব্র আর্তনাদ ও যন্ত্রণা পুরো বাড়িতে এক অশুভ আত্মার উপস্থিতি তৈরি করে। প্রতি রাতে সে তার আঘাতের বিচার চাইতে ফিরে আসে।
চূড়ান্ত পরিণতি গভীর রাতে আরিয়ান যখন বাড়িটি থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তখন সে দেখতে পায় ঘরের প্রতিটি দরজা-জানালা রহস্যজনকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। দেয়াল থেকে লাল রঙের রক্তকণা গড়িয়ে পড়তে থাকে এবং সেই অপচ্ছায়া তার সামনে এসে দাঁড়ায়। অপচ্ছায়াটি তাকে আঘাত না করলেও তার মনের গভীরে এক ভয়াল স্মৃতি রেখে দেয়—যেখান থেকে সে উপলব্ধি করে, আত্মাটি কেবল নিজের "আঘাত"-এর বিচার চায়, অন্য কিছু নয়।
পরদিন সকালে স্থানীয় গ্রামবাসীরা আরিয়ানকে জমিদার বাড়ির সামনে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। সে বেঁচে ফিরে আসলেও সেই রাতের আতঙ্ক এবং রহস্যময় 'আাহট' তার পুরো জীবনে এক চিরস্থায়ী দাগ ফেলে যায়।
0 Comments