ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, কৌশলগত এই জলপথের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স



স্থানীয় সময় বুধবার (১২ আগস্ট) ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। আমার মনে হয়, আমরা এটি ধরে রাখব!’ এমনকি পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর’।

 
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে একই ধরনের দাবি করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। ইরানের বন্দরগুলোতে চলমান মার্কিন অবরোধের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন, এটিকে সবাই ‘ইস্পাতের দেয়াল’ বলে অভিহিত করছে এবং এর বিরুদ্ধে ইরানের কিছু করার নেই।
 
পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের এখন কোনো নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনী নেই এবং তাদের সৈন্যদের বেতন দেওয়ার মতো সামর্থ্যও নেই। তিনি বলেন, দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তারা এখন পালাচ্ছে।
 
ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান শুধু কথা বলে, কাজ করে না। মধ্যপ্রাচ্যের সেই দাদাগিরি আর নেই।’ পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর!’ (প্রেইজ বি টু আল্লাহ!)
 
তবে ট্রাম্পের এমন দাবির মধ্যেও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতে এই জলপথ কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান। এ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নিচ্ছে না। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৃহত্তর শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে আছে।
 
ইরান জানিয়েছে, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া এবং জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি চালু হতে দেয়া হবে না।
 
প্রণালিটি দিয়ে কিছু জাহাজ চলাচল করতে পারলেও বিভিন্ন বাধা ও নিরাপত্তাঝুঁকির মুখে পড়ছে তারা। এতে জলপথটিতে জাহাজ চলাচলের পরিমাণ ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
 
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র আটটি জাহাজ পার হয়েছে। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন এই জলপথ দিয়ে ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত। বাণিজ্য বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এর আগের ১০ দিনের গড় ছিল প্রায় ১২টি জাহাজ।
 
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। জুনে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করলেও জুলাইয়ের মাঝামাঝি তা ভেঙে যায়। এরপর উভয় পক্ষ আবারও হামলা শুরু করে।
 
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি লড়াই কিছুটা কমে এলেও বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার মার্কিন নৌবাহিনীর একটি সামরিক হেলিকপ্টার পানামার পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালায়।
 
এদিকে ইয়েমেনের হুতিরাও যুদ্ধে নতুন একটি ফ্রন্ট খুলেছে। বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে তারা। মঙ্গলবার মিশরীয় মালিকানাধীন একটি জাহাজে হুতিদের হামলায় ছয়জন নিহত হন।
 
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা