তড়িৎ চৌম্বক আবেশ ও চৌম্বক ফ্লাক্স
তড়িৎ চৌম্বক আবেশ (Electromagnetic Induction) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে পরিবর্তনশীল চৌম্বক ক্ষেত্রের সাহায্যে কোনো বদ্ধ কুণ্ডলীতে তড়িচ্চালক শক্তি (EMF) এবং তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি করা হয়। ১৮৩১ সালে বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডে এই ঘটনাটি আবিষ্কার করেন।
চৌম্বক ফ্লাক্স (\(\Phi\)): কোনো তলের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত মোট চৌম্বক বলরেখার সংখ্যা।
(এখানে \(B =\) চৌম্বক ক্ষেত্র, \(A =\) ক্ষেত্রফল, \(\theta =\) বলরেখা ও তলের লম্বের মধ্যবর্তী কোণ)
মূল নীতি ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফ্লাক্সের মান
- সর্বোচ্চ ফ্লাক্স (\(\theta = 0^\circ\)): যখন চৌম্বক ক্ষেত্র তলের ওপর লম্বভাবে (\(\perp\)) অবস্থান করে, তখন তলের অভিলম্বের (Normal) সাথে কোণ হয় \(0^\circ\) (\(\cos 0^\circ = 1\))। ফলে ফ্লাক্স সর্বোচ্চ হয়: $$\Phi_{\text{max}} = B \cdot A$$
- সর্বনিম্ন বা শূন্য ফ্লাক্স (\(\theta = 90^\circ\)): যখন চৌম্বক ক্ষেত্র তলের সমান্তরালে প্রবাহিত হয়, তখন তলের অভিলম্বের সাথে কোণ হয় \(90^\circ\) (\(\cos 90^\circ = 0\))। ফলে কোনো বলরেখা তল ভেদ করে না এবং ফ্লাক্স শূন্য হয়: $$\Phi = 0$$
-
একক ও মাত্রা:
- SI একক: ওয়েবার (\(\text{Weber}\) বা \(\text{Wb}\))
- \(1 \text{ Wb} = 1 \text{ Tesla} \times 1 \text{ m}^2 = 1 \text{ T}\cdot\text{m}^2\)
ফ্যারাডের আবেশের সূত্র ও লেনজের সূত্র
ফ্যারাডের আবেশের সূত্র (Faraday's Laws):
- যখনই কোনো বদ্ধ কুণ্ডলীর মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত চৌম্বক ফ্লাক্সের পরিবর্তন ঘটে, তখনই কুণ্ডলীতে একটি ক্ষণস্থায়ী তড়িচ্চালক শক্তি আবিষ্ট হয়।
- আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তির পরিমাণ চৌম্বক ফ্লাক্সের পরিবর্তনের হারের সরাসরি সমানুপাতিক: $$e = -N \frac{d\Phi}{dt}$$ (এখানে \(N =\) কুণ্ডলীর পাকসংখ্যা এবং \(\frac{d\Phi}{dt} =\) ফ্লাক্স পরিবর্তনের হার)
লেনজের সূত্র (Lenz's Law): আবিষ্ট তড়িৎ প্রবাহের দিক এমন হয় যে, এটি সৃষ্টি হওয়ার মূল কারণকেই (ফ্লাক্সের পরিবর্তন) বাধা প্রদান করে। সূত্রের মাইনাস (\(-\)) চিহ্নটি এই বাধাকেই প্রকাশ করে।
আবেশের প্রকারভেদ
| প্রকার | বিবরণ |
|---|---|
| স্বকীয় আবেশ (Self Induction) | কোনো কুণ্ডলীতে নিজের বিদ্যুৎ প্রবাহের পরিবর্তনের ফলে স্বীয় কুণ্ডলীতেই তড়িচ্চালক শক্তি আবিষ্ট হওয়া। |
| পারস্পরিক আবেশ (Mutual Induction) | একটি কুণ্ডলীতে (মুখ্য) প্রবাহের পরিবর্তনের ফলে পার্শ্ববর্তী অন্য কুণ্ডলীতে (গৌণ) তড়িচ্চালক শক্তি আবিষ্ট হওয়া। |
বাস্তব জীবনের প্রয়োগ
- জেনারেটর (Generator): যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করতে ব্যবহৃত হয়।
- ট্রান্সফরমার (Transformer): পারস্পরিক আবেশের নীতি কাজে লাগিয়ে এসি ভোল্টেজ বাড়াতে (Step-up) বা কমাতে (Step-down) ব্যবহার করা হয়।
- ইনডাকশন কুকার: ফ্লাক্স পরিবর্তনের মাধ্যমে এডি কারেন্ট (Eddy Current) তৈরি করে তাপ উৎপন্ন করে।
0 Comments