History Will Remember

ইতিহাসের পাতায় নীরবতার মহাকাব্য: আমরা কি গাদ্দার বিবেচিত হব?

ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে—পাকিস্তান ছিল বিশ্বের অন্যতম পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। তবুও গাজার রক্ষার্থে একটি বোমাও উড়ে আসেনি।

মিশরের বুক চিরে নীল নদ বয়ে গিয়েছে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে, যা প্রাণ জুগিয়েছে আফ্রিকার মরুভূমিকে। অথচ পাশেই গাজার শিশুরা তৃষ্ণায় কাতর হয়ে কাঁপতে কাঁপতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিল।

সৌদি আরব, আরব আমিরাত ছিল তেলের সাগরে ভেসে থাকা সাম্রাজ্য, মানে বিলাসী সাম্রাজ্য। কিন্তু গাজার অ্যাম্বুলেন্সগুলো পেট্রোল না পেয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল নিঃশব্দে, নিরুপায় হয়ে, যেন নীরবতায় একটা আর্তনাদ।

সর্বোচ্চ আশা-প্রত্যাশার অসংখ্য চোখ তাকিয়ে ছিল তুরস্কের দিকে। নেতৃত্বের স্বপ্নে বিভোর উম্মাহর দাবি করা মুখপাত্র! তবুও গাজার জন্য তারা কিছুই করল না। না রসদ সামগ্রী সাহায্য, না সামরিক সহযোগিতা, না নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় কূটনৈতিক আগ্রাসন।

গোটা বিশ্বের মুসলমানদের ছিল পঞ্চাশ লাখ সৈন্য!

ছিল ট্যাংক, ক্ষেপণাস্ত্র, স্যাটেলাইট, যুদ্ধবিমান, আধুনিক প্রযুক্তি, এমনকি হাইড্রোজেন পরমাণু বোমা। কিন্তু গাজার আকাশে একটাও যায়নি...

সবকিছু থাকবে লেখা ইতিহাসে। গাজার মতো কাশ্মীরের কথা বলেন, সোমালিয়ার কথা বলেন, উইঘুর, সিরিয়া, কিংবা রোহিঙ্গাদের কথা বলেন—বিশ্বের সকল প্রান্তে জুলুমাতের অন্ধকারে থাকা মুসলমানদের কথা লেখা থাকবে।

তবুও আমরা ছিলাম চুপ। চারিদিকে শুধুমাত্র নীরবতা।

আমরা তাদের জন্য দোয়া পর্যন্ত করি না। তাদের মুক্তির জন্য আমরা সালাতে দাঁড়াই না। তাদের দোয়ার জন্য আমরা অন্ততপক্ষে তাদের পাশে দাঁড়াই না। আমরা আল্লাহর কাছে অন্ততপক্ষে তাদের মুক্তির জন্য কথা বলি না।

চিন্তা করেছেন, আজ থেকে একশ বছর পর আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যখন ইতিহাস পড়বে, যখন ইতিহাসগুলো লিখবে, যখন ইতিহাসগুলো চেয়ে চেয়ে দেখবে—তখন তারা আমাদেরকে মুনাফিক, গাদ্দার ছাড়া আর কি বলবে?