আমাদের ইতিহাস ও বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই

ইতিহাসের পাতা থেকে: ব্রিটিশ আগ্রাসন ও আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই

আমি ইংরেজদের ব্যাপারে অনেক অনেক কথা বলেছি। অনেক পর্ব (episode) তৈরি করেছি এবং সামনেও করব। বাজারে এ সংক্রান্ত অনেক বইও পাওয়া যায়। যেমন— ‘মুসলিম বিশ্বে ব্রিটিশ আগ্রাসন’ নামে একটি বই আপনারা বাজারে পাবেন।

বইটির কিছু অংশ আমি আপনাদের পঠিত করে শোনাই—

১৭৬৫ সাল থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত—এই ১৭৩ বছরে ভারত উপমহাদেশ থেকে ইংরেজরা পাচার করেছে ৯.২ ট্রিলিয়ন পাউন্ড! চিন্তা করে দেখুন একবার।

কেন ১৭৫৭ সাল থেকে বলা হয়নি? কারণ ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের পরই মূলত তারা বিভিন্ন রাজস্ব আদায়ের সুযোগ পেয়েছিল।

এই ৯.২ ট্রিলিয়ন পাউন্ড (যা ডলারের হিসাবে প্রায় ৪৪.৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার—যেখানে আমেরিকার বর্তমান জিডিপি প্রায় ৩২.৩৮ ট্রিলিয়ন) তারা চুরি করে পাচার করেছে। উপরন্তু, এখানে বসে কী পরিমাণ সম্পদ ভোগ করে গেছে, তার হিসাব তো বাদই দিলাম!

আর এই সবকিছু দেখেও চোখ বন্ধ করে সমর্থন জুগিয়েছে উচ্ছিষ্টভোগী কলকাতার তৎকালীন জমিদারেরা। চিন্তা করুন, মুসলমানদের সম্পদ কেমন ছিল! এই উপমহাদেশকে কীভাবে চুষে খাওয়া হয়েছে এবং সম্পদগুলো ভক্ষণ করে পাচার করা হয়েছে—অথচ এ ব্যাপারে অজস্র তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে।

আমরা ১৯৪৭-কে কীভাবে ভুলে যাই? আমরা কি ১৯৪৭-কে ভুলতে পারি? সত্যি করে বলুন তো, ১৯৪৭ কি আমাদের ইতিহাস নয়?

  • ১৭৫৭, ১৭৬৫, ১৭৭০, ১৭৮০, ১৭৮৬, ১৭৯০—এগুলো কি আমাদের ইতিহাস নয়?
  • ১৮৫৭, ১৮৭৯—এগুলো কি আমাদের ইতিহাস নয়?
  • আমরা কি সত্যিই আমাদের ইতিহাস থেকে এত দূরে চলে আসব?
  • আমরা কি শুধুমাত্র গত কয়েক বছরকেই আমাদের একমাত্র ইতিহাস মনে করব?

এটা কি সত্যিই আমাদের জন্য লজ্জার নয়? আমাদের জাতির—বাঙালি জাতির আসল পরিচয় কোথায়? আমাদের জাতিকে কীভাবে ধাপে ধাপে নিঃশেষ করা হলো, সেগুলো কি আমাদের জানার অধিকার নেই? নাকি আমরা সত্যিই এগুলো নিয়ে পড়াশোনা করব না?

বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই আপনাকে শিখতে হবে। বুদ্ধিবৃত্তিকের ব্যাপারটা আপনাকে আয়ত্ত করতে হবে—নইলে আমরা আজীবনই দাস হয়ে থাকব, গোলামি করে যাব।